গল্প

রাফায়েত ও আনিকার সম্পর্কের বিচ্ছেদের গল্প

রাফায়েত ও আনিকার সম্পর্কের বিচ্ছেদের গল্প

রাফায়েত ও আনিকার সম্পর্ক ভেঙ্গেছে এক বছর হলো। সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরও দু’জনেই খুব স্বাভাবিক। জানাজানি পর্যন্ত হলো না, তাদের সম্পর্কটা হঠাৎ ভেঙ্গে গেছে। রাফায়েত ধরেই নিয়েছিলো স্কুল জীবনের পর আনিকার সাথে আর দেখা হবে না। কিন্তু কলেজে আবার দু’জনের দেখা। এতে দু’জনেই খুবই বিরক্ত কারণ দেখা হলেই অতীতটা জীবন্ত হয়ে উঠে৷ কলেজের প্রথম ক্লাসে রাফায়েত আনিকাকে দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও জানতে চাইলো, ‘কেমন আছো?’ আনিকা কিচ্ছু না বলে চলে গেলো।

রাফায়েতের বুকটা কেঁপে উঠলো। এই মানুষটা অতীতে কত আপন ছিলো। আনিকার প্রতি তার আবার ভালো লাগা শুরু হয়েছে। অানিকা সেটা বুঝতেও পারছে। তাই সে ক্লাসে আসা কমিয়ে দিয়েছে।

রাত দশটা। আনিকা পড়ার টেবিলে বসে আছে৷ মাকে দেখে সে অন্যমস্কতা কাটিয়ে বইয়ের দিকে মন দিলো।

  • ‘আনিকা কয়েকদিন ধরে কলেজে যাচ্ছো না কেন?’
  • ‘আম্মু, রাফায়েত আর আমি আবার একই ক্লাসে।’
  • ‘কি!! রাফায়েত!’
  • ‘হ্যাঁ, আম্মু।’
  • ‘আগে বলো নি কেন?’
  • ‘আম্মু, তুমি কি মনে করবে তা নিয়ে ভাবছিলাম।’
  • ‘আচ্ছা, তুমি চিন্তা করো না। রাফায়েতের সাথে দেখা না হওয়ার একটা উপায় বের করছি। তুমি নিয়মিত ক্লাস শুরু করো।’

আনিকা আবার নিয়মিত ক্লাস শুরু করলো। রাফায়েত ওকে বিরক্ত করার চেষ্টা করতো। আনিকা পাত্তা দিতো না।

এভাবেই কলেজ জীবন শেষ। আনিকার বাবা আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়েছে গতমাসে। এ মাসের এগারো তারিখ তাদের শেষদিন, দেশে আর থাকা হবে না।

রাফায়েতের বাসা আর আনিকার বাসা নিঃশ্বাস ফেলা দূরত্ব। মানে ওরা পাশাপাশিই থাকে। তবে পারিবারিকভাবে কোন সুসম্পর্ক নেই।

রাফায়েত কি করবে ভাবছে৷ আনিকা তো চলে যাবে৷ মাত্র কয়েকদিন দেশে আছে। বন্ধুদের কাছেও কি করবে জানতে চাইলো। ভালো কোন পরামর্শ বন্ধুরা দিতে পারে নি। রাফায়েতের কাছে আনিকার কিছু ছবি আছে। সম্পর্কের প্রথম দিকের ছবি। রাফায়েতের কাছে এখনো যত্নেই আছে।

অবশেষে আনিকা ও তার পরিবার আমেরিকা চলে গেলো। রাফায়েত দেশেই রয়ে গেলো। দু’জনের কোন প্রকার যোগাযোগ নেই।

২০১৫ সাল, রাফায়েতের ভার্সিটি লাইফ শেষ। একদিন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আনিকার এক বান্ধবীর সাথে রাফায়েতের দেখা। বান্ধবীর নাম সুজতানা৷ দেখা হওয়ার পর আনিকার কথা জানতে চাইলো। আনিকা আমেরিকার একটা প্রতিষ্ঠানে ইনটার্নি করছে। ভালো একটা চাকরি হবে খুব তাড়াতাড়ি।

রাফায়েত সুজতানার কাছে আনিকার ঠিকানাটা চাইলো। সুজতানা প্রথমে দিতে চাইলো না। পরে রাজি হলো।

নভেম্বরের ছয় তারিখ আনিকা একটা পার্সেল পেয়েছে নিজের নামে। আজ তার জন্মদিন। প্রেরকের ঠিকানায় লেখা আছে:-

From: Rafayet Ahmed,Bangladesh

আনিকার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। রাফায়েত আবার এতদিন পর? কি উদ্দেশ্যে?

পার্সেলের ভেতরটা দেখতেই মনটা কেঁদে উঠলো আনিকার।

আনিকার কিছু ছবি। ছবিগুলো রাফায়েত ফেরত পাঠিয়েছে। সাথে একটা চিঠি। চিঠিতে লেখা আছে:-

ছবিগুলো রাখা খুব কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পাঠিয়ে দিলাম। মায়া বাড়িয়ে লাভ কি?
ও আচ্ছা, মা-বাবা আলাদা সংসার শুরু করেছে। মা ও বাবা আমাকে নেওয়ার জন্য মামলা পর্যন্ত গিয়েছিলো। আমি কারো সাথেই থাকতে রাজি না। এক বন্ধুর সাথে একটা ব্যাচেলর বাসায় থাকছি। মা-বাবার ডিভোর্সের পর তুমি হয়ত আমার সাথে আর মিশতে চাও নি৷ তাই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলে। আমি একটুও কষ্ট পাই নি। আমি খুব সৌভাগ্যবান, তোমার মতো একজন মানুষের খুব কাছেই ছিলাম।

আমি কখনো চাই নি মা-বাবা আলাদা হয়ে যাক। আমি অনেক চেষ্টার পর ডিভোর্স হওয়া সত্ত্বেও একই বাসায় মা-বাবাকে নিয়ে থাকতাম। তাই তোমরা আমাদের বাসায় আসতে না। আমি সব বুঝতাম।
আমি মনে করি না, তোমার আর আমার সম্পর্কটা নেই। আমার কাছে সবকিছু আগের মতোই আছে। শুধু দূরত্বটাই বেড়েছে।

ইতি,
রাফায়েত।

About the author

আব্দুল আলীম

হাই, আমি আবদুল আলীম, বাংলাদেশ থেকে এবং এটি আমার ব্যক্তিগত ব্লগ। আমি খুশী যে আপনি আমার ব্যক্তিগত ব্লগে এসেছেন এবং আমার নিজের লেখা নিবন্ধগুলি দেখছেন! আপনি যদি আমার সম্পর্কে আরও জানতে চান। তাহলে আপনি আমার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলিও দেখে নিতে পারেন এবং এতে আমাকে অনুসরণ করতে বা বার্তা পাঠাতে পারেন। ধন্যবাদ।

2 Comments

Click here to post a comment

/* ]]> */