ডিজিটাল নিরাপত্তা

ভুল নম্বরে টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হলে অর্থ ফেরত পাবেন যেভাবে

ভুল নম্বরে টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হলে অর্থ ফেরত পাবেন যেভাবে

আধুনিক হচ্ছে মানুষ, বারছে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। তারি সাথে বারছে অন-লাইনে কেনাকাটা আর ডিজিটাল লেনদেন এর বিস্তার। মানুষ যেমন ডিজিটাল হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে ডিজিটাল ডিজিটাল অপরাধ (Digital Crime) এর পরিমান। তাই বারছে ডিজিটাল নিরাপত্তার চাহিদা ও।

প্রায়ই অন-লাইনে কিছু কেনাকাটা বা কোন সেবা পেতে বিভিন্য মোবাইল ব্যাংকিং যেমন, বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর, ক্রেতা বা ভোক্তা তার পন্য বা সেবা না পেতে প্রতারিত হয়ে থাকেন। অথবা, টাকা পাঠানোর সময় ভুলে অন্য নম্বরে পাঠিয়ে ফেলেন, কিন্তু এই নম্বরে যোগাযোগ করে সেই অর্থ ফেরত পাননা। এনিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং এর ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটা আতঙ্ক আর অনীহার সৃষ্টি হয়।

এ সমস্যায় কী কী করণীয় তার একটি নির্দেশনা দিয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের বিকাশ, রকেট ও নগদ। তিন মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের কর্তৃপক্ষ প্রথমেই যে পরামর্শ দিচ্ছে তা হলো, ভুল নম্বরে টাকা পাঠিয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে যার নম্বরে টাকা চলে গেছে তাকে ফোন দেবেন না। কারণ, যেহেতু সে আপনাকে প্রতারিত করে টাকা নিছে তাই সে ওই টাকা ফেরত দিতে চাইবে না। আর যদি টাকা ভুলবশত অন্য নম্বরে পাঠিয়ে ফেললে, তাহলে সেই অর্থ খুব কম লোকই ফেরত দেয়ার মানসিকতা রাখে।

আর যে টাকা নম্বরে চলে গেছে, সেই নাম্বরের মালিক যদি ওই টাকা উঠিয়ে ফেললে বা খরচ করে ফেলেন তালে ভুক্তভোগীর করার কিছুই থাকবে না। তাই সবার প্রথমে, যখনি আপনার মনে হবে যে আপনি অন-লাইনে প্রতারিত হবেন বা টাকা ভুলে পাঠিয়ে ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে, আপনি যে মোবাইল ব্যাংকিং এর সার্ভিস ব্যবহার করছেন এই মোবাইল ব্যাংকিং এর সেবা কেন্দ্র (Service Center) এর নম্বরে কল করে ঘটনা খুলে বলুন আর ওই মরমে একটি নালিশ (Complaint) দয়ের করুন। এতে করে ওই ব্যক্তি আপনার টাকা উঠিয়ে বা খরচ করে ফেলতে পারবে না।

বাংলাদেশি মোবাইল ব্যাংকিং এর সেবা কেন্দ্র গুলোর নম্বর হলঃ ১৬২৪৭ অথবা ০২-৫৫৬৬৩০০১ (বিকাশ), ১৬২১৬ (রকেট), ১৬১৬৭ অথবা ০৯৬ ০৯৬ ১৬১৬৭ (নগদ), ইত্যাদি।

মোবাইল ব্যাংকিং এর সেবা কেন্দ্রে নালিশ দয়ের করার পর কাছের থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সেখানে কমপ্লায়েন্ট নম্বর বা ট্রানজেকশন নম্বর নিয়ে জিডি করে যত দ্রুত সম্ভব সেই জিডি কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

যোগাযোগের পর কর্মকর্তারা জিডি কপি ও মেসেজ খতিয়ে দেখেন। এরপর আপনাকে প্রতারিত করে টাকা নেওয়া বা টাকা ভুলে চলে গেলে ওই ব্যক্তির বিকাশ, রকেট বা নগদ অ্যাকাউন্ট টেম্পোরারি লক করে দেয়া হয়। যাতে ওই ব্যক্তি আপনার পাঠানো টাকা তুলতে বা কোথাও খরচ করতে না পারেন।

পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বিকাশ কর্মকর্তারা। ওই ব্যক্তি যদি ফোন ধরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যে ওই টাকা তার নয়, তবে অফিস থেকেই ওই টাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে স্থানান্তর করে বাংলাদেশি মোবাইল ব্যাংকিং এর কোম্পানিগুলো। আর যদি ওই ব্যক্তি নিজের টাকা বলে দাবি করেন, তবে তাকে প্রমাণসহ সাত কর্ম দিবসের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং এর অফিসে এসে অ্যাকাউন্ট ঠিক করে নিতে নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ওই ব্যক্তি যদি সেই নির্দেশনা না মেনে পরবর্তী ৬ মাসে মোবাইল ব্যাংকিং এর অফিসে না আসে তাহলে ওই টাকা যে নম্বর থেকে এসেছে মানে সেই ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। ওই ব্যক্তি যদি এর পরবর্তী ৬ মাসেও মানে মোট ১ বছরেও মোবাইল ব্যাংকিং এর অফিসে না আসে তাহলে ওই ব্যক্তির মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে স্বয়ংক্রিয় অক্ষম (Auto Disable) হয়ে যাবে এবং সেই ব্যক্তি ওই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টটি আর ব্যবহার করতে পারবে না।

About the author

আব্দুল আলীম

হাই, আমি আবদুল আলীম, বাংলাদেশ থেকে এবং এটি আমার ব্যক্তিগত ব্লগ। আমি খুশী যে আপনি আমার ব্যক্তিগত ব্লগে এসেছেন এবং আমার নিজের লেখা নিবন্ধগুলি দেখছেন! আপনি যদি আমার সম্পর্কে আরও জানতে চান। তাহলে আপনি আমার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলিও দেখে নিতে পারেন এবং এতে আমাকে অনুসরণ করতে বা বার্তা পাঠাতে পারেন। ধন্যবাদ।

4 Comments

Click here to post a comment

/* ]]> */